সর্বশেষ আপডেট

বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। কোরআনই সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান



মধ্যাকর্ষন শক্তি কি ভূল ? 

বিজ্ঞানের পরিভাষায় পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে প্রধানত: দিবা-রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন ঘটে। উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে পরিভ্রমণকালে পৃথিবী নিজ কক্ষতলের উপর সর্বদা ৬৬.৫ ডিগ্রী কোণে হেলে স্থান পরিবর্তন করছে। বিজ্ঞানের এ ধারণা সঠিক হলে মধ্যাকর্ষন শক্তির নিয়মানুযায়ী পৃথিবীর উপরদিকে অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর মেরু বা উত্তর গোলার্ধ নদী নালা, খাল-বিল বিহীন এক কথায় পানিশূন্য থাকবে। যেহেতু মধ্যাকর্ষন শক্তির নিয়ম হচ্ছে উপরের দিকের বস্তু নীচের দিকে পতিত হওয়া। কিন্তু পৃথিবীর উত্তর মেরু বা উত্তর গোলার্ধ তো পানি শূন্য নয় বরং পানিতে ভরপুর। অপর দিকে বিজ্ঞানের ধারনা মতে পৃথিবীর বার্ষিক গতির সময় ২১শে জুন থেকে ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত পৃথিবী ক্রমশ উত্তর দিকে
হেলতে থাকে। বিজ্ঞানের এ ধারনা সঠিক হলে মধ্যাকর্ষন শক্তির নিয়ম অনুসারে পৃথিবীর উত্তর মেরুতে বা উত্তর গোলার্ধে ২১শে জুন থেকে ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়মাস একটানা জোয়ার হতে থাকবে। আবার বিজ্ঞানের ধারনা মতে পৃথিবী বার্ষিক গতির কারণে ২২শে ডিসেম্বর থেকে ২১শে জুন পর্যন্ত পৃথিবী ক্রমশ দক্ষিণ দিকে হেলতে থাকে। বিজ্ঞানের এ ধারনা সঠিক হলে মধ্যাকর্ষন শক্তির নিয়ম অনুসারে পৃথিবীর উত্তর মেরু বা উত্তর গোলার্ধে ২২শে ডিসেম্বর থেকে ২১শে জুন পর্যন্ত একটানা ছয়মাস ভাটা হতে থাকবে। কিন্তু আদৌ  পৃথিবীতে কোথাও একটানা ছয়মাস জোয়ার কিংবা একটানা ছয়মাস ভাটা হয় না। তাহলে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষন শক্তি কি ভূল ? 

বিজ্ঞানী নিউটনের সূত্র কি ভূল ? 

বিজ্ঞানের ধারনায় প্রত্যেকটি গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে অর্থাৎ সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে। যে জন্য প্রত্যেকটি গ্রহ বিজ্ঞানী নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় আপন অক্ষের উপরও ঘুরছে। কিন্তু প্রত্যেকটি গ্রহ যেমনি দূরত্বের ব্যবধানে সামঞ্জস্যপূর্ণতার বা ধারাবাহিকতার সঙ্গে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, তেমনি সামঞ্জস্যপূর্নতার সঙ্গে বা ধারাবাহিকতার সাথে আপন অক্ষের উপরও ঘুরছে না কেন ? যেমন পৃথিবী ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিটে আপন অক্ষের উপর একবার ঘুরছে কিন্তু বুধ গ্রহ সূর্যের একেবারে নিকটবর্তী গ্রহ হওয়া সত্ত্বেও ৫৯দিনে আপনার অক্ষের উপর একবার ঘুরছে। আবার বৃহষ্পতি গ্রহ সূর্য থেকে বহুদূরে অবস্থান করেও মাত্র ৯ঘন্টা ৫৫মিনিটে আপন অক্ষের উপর একবার ঘুরছে। পক্ষান্তরে বিজ্ঞান যেমনি পৃথিবী ৩৬৫দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করছে তার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় আপন অক্ষের উপরও ২৪ঘন্টায় একবার ঘুরছে বলে ধারনা করছে ঠিক তেমনি বিজ্ঞান চন্দ্রকে ২৭.৩৩ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করার কথা উল্লেখ করেছে কিন্তু বিজ্ঞানী নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী তার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া কি তা উল্লেখ করেনি। আবার বিজ্ঞান সূর্যকে আপন অক্ষের উপর ২৫দিনে একবার ঘুরছে বলে উল্লেখ করেছে কিন্তু তার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া কি তা বিজ্ঞান উল্লেখ করেনি। তাহলে বিজ্ঞানী নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি কি ভূল ? 

বাস্তবক্ষেত্রেও কি ভূল ? 

বিজ্ঞানের ধারনায় পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে সূর্যকে গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ ২১শে জুন উত্তর দিকে দেখা যায় এবং ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ দিকে দেখা যায়। অথচ বাস্তবক্ষেত্রেও শীত গ্রীষ্মে শুধুমাত্র সূর্যকে ছাড়া অন্য কোন গ্রহ নক্ষত্রকে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা যায় না কেন? শীত গ্রীষ্ম সব সময় সকল গ্রহ নক্ষত্রগুলো একই বরাবর দেখা যায় কেন? বাস্তক্ষেত্রেও তো চন্দ্রকে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ দিকে এবং শীতকালে উত্তর দিকে দেখা যায়। অথচ বিজ্ঞানের ধারণায় গ্রীস্মকালে সূর্যকে যে বরাবর দেখা যায় পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারনে শীতকালে তার চেয়ে দক্ষিণ দিকে দেখা যায়। বিজ্ঞানের এ ধারণা সঠিক হলে সূর্যের মতই চন্দ্রকে গ্রীষ্মকালে যে বরাবরে দেখা যায় শীত কালে তার চেয়ে দক্ষিণ দিকে দেখা যাওয়ার কথা। ঠিক এমনিভাবে বাস্তবক্ষেত্রেও চন্দ্রকে শীতকালে যে বরাবর দেখা যায় বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে গ্রীস্মকালে চন্দ্রকে আরও উত্তর দিকে দেখা যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রেও চন্দ্রকে গ্রীষ্মকালে যে বরাবর দেখা যায় শীতকালে দক্ষিণ দিকে দূরের কথা বরং উত্তর দিকে ই দেখা যায়। ঠিক এমনি ভাবে চন্দ্রকে শীতকালে যে বরাবর দেখা যায় গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকের পরিবর্তে আরও দক্ষিণ দিকে দেখা যায়। তাহলে বিজ্ঞানের ধারণা মোতাবেক বার্ষিক গতির সময় পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে সূর্যকে যেমনি শীতকালে দক্ষিণ দিকে আর গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকে দেখা যায় তেমনি চন্দ্রকেও একই তুলনায় শীতগ্রীষ্মে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা যায় না কেন ? বরং শীত গ্রীষ্মে চন্দ্রকে বিপরীত দিকে দেখা যায় কেন? পান্তরে বিজ্ঞানের ধারনা মোতাবেক বার্ষিক গতির সময় পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে সূর্যকে যেমনী শীতকালে দক্ষিণ দিকে এবং গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকে দেখা যায় তেমনি আকাশের শত কোটি নক্ষত্র সহ কোন্ গ্রহটি পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে শীতকালে যে বরাবর দেখা যায় গ্রীষ্মকালে তার চেয়ে উত্তর দিকে দেখা যায়? অথবা গ্রীষ্মকালে যে বরাবর দেখা যায় শীতকালে তার চেয়ে দক্ষিণ দিকে দেখা যায় ? প্রকৃতপক্ষে বাস্তবক্ষেত্রেও একমাত্র সূর্য ছাড়া আকাশের কোন গ্রহ-নক্ষত্রকে শীতকালে দক্ষিণ দিকে আর গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকে দেখা যায় না। বরং শীত-গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতে প্রত্যেকটি গ্রহ-নক্ষত্রকে একই বরাবরে দেখা যায়। তাহলে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বার্ষিক গতির সময় পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে  আকাশের সকল গ্রহ-নক্ষত্র ছাড়া কি শুধুমাত্র সূর্যকে শীতকালে দক্ষিণ দিকে আর গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকে দেখা যাবে? পক্ষান্তরে অনেক সময় রাতে আকাশে কখনো উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে, আবার কখনও দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে, আবার কখনো পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে দ্রুত গতিতে নক্ষত্র চলতে দেখা যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে কক্ষচ্যূত নক্ষত্র বলা হয়। মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের ভিতর এসব নক্ষত্র আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত অতিক্রম করে। তাহলে সূর্যের চেয়ে কোটি কোটি গুণ বড় এবং সূর্যের চেয়ে কোটি কোটি কিঃ মিঃ দূরের এসব কক্ষচ্যুত নক্ষত্র মাত্র ১০মিনিটের ভিতর আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সহজে স্বাভাবিকভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হলে দীর্ঘ ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টায় আকাশের প্রত্যেকটি গ্রহ-নক্ষত্র চন্দ্র, সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে সহজে ও স্বাভাবিক ভাবে অতিক্রম করতে পারবে না কেন ? 

সূর্য আকর্ষণহীন: 

বিজ্ঞানের ধারনা সূর্যের প্রবল আকর্ষনে বিশাল বিশাল ভারী গ্রহ গুলো সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে। পৃথিবীও নাকি একটা গ্রহ। পৃথিবী নাকি তার উপগ্রহ চন্দ্রকে নিয়ে সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সূর্য এক বিশাল অগ্নিপিন্ড। তাহলে আগুণেরও কি আকর্ষণ ক্ষমতা আছে? ধাতব পদার্থ ছাড়া কি স্থায়ী চৌম্বকত্ব বা আকর্ষন ক্ষমতা সম্ভব? সূর্যের যে প্রবল আকর্ষনে পৃথিবী বর্তমান অবস্থানে অবস্থান করছে চন্দ্র প্রত্যেক মাসে আমাবস্যার দিন ঐ প্রবল আকর্ষনের মধ্যে পতিত হচ্ছে। কিন্তু পৃথিবী সূর্যের প্রবল আকর্ষনকে উপেক্ষা করে আমাবস্যার পর থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দ্রকে সূর্য থেকে ক্রমশ: দূরে সরায়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাহলে সূর্যের যে প্রবল আর্কষণ পৃথিবীকে নিজের চারিদিকে ঘোরাচ্ছে সূর্যের সে আকর্ষণ আমাবস্যার সময় চন্দ্রকে পৃথিবীর নিকট থেকে বিচ্ছন্ন পূর্বক নিজের চারিদিকে ঘোরাচ্ছে না কেন? সত্যই যদি পৃথিবী চন্দ্রকে নিজের চারিদিকে ঘোরায়  তবে আমাবস্যার পর থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত যেতে চন্দ্রের যে সময় লাগে তার চেয়ে দ্রুত এবং কম সময়ে লাগবে পূর্ণিমার পর থেকে আমাবস্যা পর্যন্ত যেতে। কেননা আমাবস্যার পর থেকে পূর্নিমা পর্যন্ত চন্দ্র সূর্যের আকর্ষন শক্তির বিপরীতে যেতে থাকে আর পূর্ণিমার পর থেকে আমাবস্যা পর্যন্ত চন্দ্র সূর্যের আকর্ষন শক্তি অভিমূখে যেতে থাকে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে চন্দ্রের গতিবেগ আদৌও কি কখনো হ্রাস বা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে? অবশ্য বিজ্ঞানের ধারনা মোতাবেক সূর্য এ বিশাল পৃথিবীকে আকর্ষন করে রাখলে চন্দ্র পৃথিবীর দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে প্রদক্ষিণ করলে সূর্যের আকর্ষন শক্তি সহজে প্রমাণিত হতো। কিন্তু বিজ্ঞানতো পৃথিবীকে ২৪ঘন্টায় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আপন অক্ষের উপর একবার ঘুরবার স্বপ্ন দেখছে। যে জন্য কল্পিত সূর্যের প্রচন্ড আকর্ষন ক্ষমতাকে ভূলে গিয়ে নির্বিঘ্নে চন্দ্রকেও পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ২৭.৩ দিনে একবার ঘোরাতে সক্ষম হচ্ছে।

চন্দ্র পৃথিবীর উপগ্রহ নয়: 

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে চন্দ্র পৃথিবীর উপগ্রহ। পৃথিবী পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিটে আপন অক্ষের উপর একবার ঘুরছে। সে জন্য চন্দ্র ২৭.৩ দিনে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করছে। বিজ্ঞানের এ তথ্য সঠিক হলে পৃথিবী হতে চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশ করতে গতিবেগ হ্রাস-বৃদ্ধি নিস্প্রয়োজন বরং চন্দ্র হতে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশের সময় অবশ্যই গতিবেগ বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ গতিবেগ পৃথিবীর আহ্নিক গতির সমতূল্য হতে হবে। নতুবা পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। যেমন একটা গতিশীল গাড়িতে উঠতে হলে গাড়ির গতির সমতুল্য গতিসম্পন্ন না হলে গাড়িতে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে, অনুরূপ স্বল্প গতি সম্পন্ন চন্দ্রের কক্ষপথ থেকে অধিক গতিসম্পন্ন পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করতে অবশ্য-অবশ্যই পৃথিবীর আহ্নিক গতির সমতুল্য গতি সম্পন্ন হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার বিপরীত। চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশ করতে অতিক্রান্ত গতিবেগ দরকার হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে কমপে ২.৪ কি. মি.। নতুবা চন্দ্র অভিযান ব্যর্থ হয়ে যাবে। যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে প্রথম ১০টি চন্দ্র অভিযান। দুর্ঘটনা ঘটুক বা যাই হোক না কেন দ্রুতগামী বা গতিশীল গাড়ি থেকে স্বাভাবিক যে কোন গতিতে নামা যাবে না কেন? অর্থাৎ স্বাভাবিক যে কোন গতিতে চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশ করা যাবে না কেন? যেহেতু পৃথিবী থেকে চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশ করতে অতিক্রান্ত গতিবেগ সেকেন্ডে ২.৪ কি. মি. দরকার। সেহেতু চন্দ্রের কক্ষপথ গতিশীল স্রোতের মতই। অর্থাৎ বিজ্ঞানের সাথে বাস্তবের মিল নেই। অপরদিকে চন্দ্র ২৭.৩ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে বিজ্ঞানের এ তথ্যটিও সঠিক হলে নবমী-দশমীর পর হতে পূর্ণিমার পূর্ব পর্যন্ত  সন্ধ্যায় পূর্ব আকাশে চন্দ্রের অন্ধকার অংশ উপরের দিকে দেখা যাবে। কিন্তু ঐ সময় চন্দ্রের অন্ধকার অংশ নিচের দিকে দেখা যায়। অনুরূপ পূর্ণিমার পর হতে ষষ্ঠী-সপ্তমী পর্যন্ত  ভোরে পশ্চিমদিকে চন্দ্রের অন্ধকার অংশ উপরের দিকে দেখা যাবে। কিন্তু ঐ সময়ও চন্দ্রের অন্ধকার অংশ নিচের দিকেই দেখা যায়। অর্থাৎ বিজ্ঞান বাস্তবের বিপরীত। প্রকৃতপে স্রোতের ভাসমান বল যেমন ভাসতে ভাসতে আপন অক্ষের উপর ঘুরতে থাকে (বিপরীত প্রতিক্রিয়া) ঠিক তেমনি চন্দ্রও আপন কক্ষপথে ভাসছে অর্থাৎ প্রায় ২৫ ঘন্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করছে এবং তার বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় প্রায় ২৯দিনে আপন অক্ষের উপর একবার ঘুরছে। অর্থাৎ চন্দ্র পৃথিবীর উপগ্রহ নয়।
চন্দ্র প্রায় ২৫ ঘন্টায় পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করছে বিধায় চন্দ্র অভিযানের সময় চন্দ্রের কক্ষপথের মধ্যে প্রবেশের জন্য পূর্ব হতে পশ্চিম মুখী হয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। আর বিজ্ঞানের ধারণা মতে চন্দ্র পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে ২৭.৩৩ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করলে পৃথিবী হতে চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশের জন্য পশ্চিম হতে পূর্বমুখী হয়ে প্রবেশ করতে হতো। এমনকি চন্দ্রের কক্ষপথের মধ্যে প্রবেশের পর পশ্চিম হতে পূর্বমুখী হয়ে চলাচল সহজ হতো কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রেও ঘটছে বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিপরীত। বাস্তবক্ষেত্রেও চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশের পর পূর্ব হতে পশ্চিমমুখী হয়ে যাওয়া খুব সহজ কিন্তু পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে যাওয়া খুবই কঠিণ ও কষ্টকর। কেননা চন্দ্রের কক্ষপথ পূর্ব হতে পশ্চিমমুখী। ঠিক একই কারণে চন্দ্র পৃষ্ঠে অবতরণের পর চন্দ্র পৃষ্ঠের উপর পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে চলাফেরা যত সহজভাবে চলাচল করা সম্ভব পশ্চিম হতে পূর্বদিকে তত সহজভাবে চলাচল করা সম্ভব নয়। কারণ পশ্চিম হতে পূর্বমুখীতো চন্দ্রের কক্ষপথের স্রোতের বিপরীত দিক।  প্রকাশিত- সাপ্তাহিক অহরহ-ঢাকা ৭-১৩ ফেব্রুয়ারী- ১৯৯৬ ইং।

সূর্যের কোন গ্রহ নেইঃ 

মাত্র পাঁচশত বছর আগে থেকে বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ধারনা করেছে যে, সূর্যের গ্রহ নয়টি। প্রত্যেকটি গ্রহ সূর্য থেকে ভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত এবং ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। সূর্য থেকে গ্রহগুলোর দূরত্বের ভিন্নতা এবং প্রদক্ষিণ সময়ের ভিন্নতার কারণে প্রত্যেকটি গ্রহ প্রতিদিন প্রতিমুহুর্তে পৃথিবী থেকে ভিন্ন ভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করার কথা। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে সত্যিই কি পৃথিবী প্রত্যেকটি গ্রহ থেকে সর্বক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে ? যেমন :

বুধ গ্রহ:
বিজ্ঞানের ধারণায় সূর্য থেকে বুধগ্রহের দূরত্ব ৩৬ মিলিয়ন মাইল এবং পৃথিবীর দূরত্ব ৯৩ মিলিয়ন মাইল। বুধগ্রহ সূর্যকে ৮৭.৯৭ দিনে একবার এবং পৃথিবী ৩৬৫.২৬ দিনে একবার প্রতক্ষিণ করছে। উভয়ের প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে বুধগ্রহ পৃথিবী থেকে কখনো ৯৩-৩৬=৯৭ মিলিয়ন মাইল দূরে, আবার কখনও ৯৩+৩৬=১২৯মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করার কথা। পক্ষান্তরে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভ্রমণকালে সূর্য হতে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না। ৪ঠা জুলাই সূর্য হতে পৃথিবীর দূরত্ব ১৫কোটি ২০লক্ষ কিলোমিটার এবং ৩রা জানুয়ারী ১৪ কোটি ৭০লক্ষ কিমি দূরে থাকে। দূরত্ব বাড়লেও আপাততঃ দৃষ্টিতে আয়তন কমে। বিধায় জুলাই মাসে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে সূর্যকে একটু ছোট এবং ডিসেম্বর মাসে অর্থাৎ শীতকালীণ সূর্যকে একটু বড় দেখায়। তাহলে বুধগ্রহ যখন পৃথিবী থেকে ১২৯ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করে তখন যে আকার বা আকৃতিতে দেখা যায় তার চেয়ে যখন পৃথিবী থেকে মাত্র ৫৭ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করে তখন বিশাল আকৃতিতে দেখা যায় না কেন? বুধগ্রহের আকার বা আকৃতি পৃথিবী থেকে সব সময় একই রকম দেখা যায় কেন? বিজ্ঞানের ধারনা সঠিক হলে বুধগ্রহ ও পৃথিবীর প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে বাস্তবক্ষেত্রে পৃথিবী থেকে বুধগ্রহ কখনো ৫৭মিলিয়ন মাইল দূরে আবার কখনও ১২৯ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করছে না কেন অথবা করবে না কেন?  আবার বিজ্ঞানের কল্পনায় পৃথিবী বার্ষিক গতির সময় হেলে যাওয়ার কারণে সূর্যকে যেমনী শীতকালে দক্ষিণ দিকে আর গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকে দেখা যায় তেমনি বুধগ্রহকেও শীত বা গ্রীষ্মে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা যায় না কেন ? বুধগ্রহকে সবসময় একই বরাবর দেখা যায় কেন? অপর দিকে বিজ্ঞানের ধারনায় বুধগ্রহ যেহেতু সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে সেহেতু পৃথিবী কখনই সূর্য ও বুধুগ্রহে মাঝখানে অবস্থান করতে সম নয়। অর্থাৎ কোনদিন মাঝরাতে বুধগ্রহকে মধ্য আকাশে দেখা যাবে না। সত্যই কি বুধগ্রহকে কোন দিন মাঝরাতে মধ্য আকাশে দেখা যায় না ?

শুক্র গ্রহ: 
বিজ্ঞানের ধারনায় সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ৬৭.২ মিলিয়ন মাইল এবং ২২৪.৭ দিনে গ্রহটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। তাহলে পৃথিবী এবং শুক্র গ্রহ উভয়ে প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে শুক্র গ্রহ কখনো পৃথিবী থেকে ৯৩-৬৭.২ = ২৫.৮ মিলিয়ন মাইল দুরে আবার কখনো ৯৩+৬৭.২=১৬০.২ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করবে। শুক্র গ্রহ যখন পৃথিবী থেকে ১৬০.২ মিলিয়ন মাইল অর্থাৎ সূর্যের একপাশে পৃথিবী, অপর পাশে শুক্রগ্রহ অবস্থান করবে তখন শুক্র গ্রহকে যে আকার বা আকৃতিতে দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বৃহৎ আকার বা আকৃতিতে দেখা যাবে। আবার যখন শুক্র গ্রহ পৃথিবী থেকে মাত্র ২৫.৮ মিলিয়ন মাইল দূরে অর্থাৎ যখন শুক্র গ্রহ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝ বরাবর অবস্থান করবে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে শুক্র গ্রহকে কখনো ছোট বা বড় দেখা যায় না কেন ? শুক্রগ্রহকে সব সময় একই আকার আকৃতিতে দেখা যায় কেন ? বার্ষিক গতির সময় পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে শুক্র গ্রহকে শীত গ্রীষ্মে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা যায় না কেন ? শীত গ্রীস্মে শুক্রগ্রহ একই বরাবর অবস্থান করে কেন ? পক্ষান্তরে বিজ্ঞানের ধারনা মতে যেহেতু শুক্রগহ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝ বরাবর অবস্থিত সেহেতু বাস্তবক্ষেত্রে আদৌও কখনো পৃথিবীর এক পাশে সূর্য ও অপর পাশে শুক্রগ্রহকে দেখা যাবে না। বাস্তবক্ষেত্রে সত্যিই কি পৃথিবীর এক পাশে সূর্য ও অপর পাশে শুক্র গ্রহকে দেখা যায় না ? প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে শুক্রগ্রহ কখনো পৃথিবী থেকে ২৫.৮ মিলিয়ন মাইল দূরে আবার কখনো ১৬০.২ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করছে না কেন ? অথবা করবে না কেন ?

মঙ্গল গ্রহ: 
সূর্য থেকে মঙ্গলগ্রহের থেকে দুরত্ব ১৪১.৬ মিলিয়ন মাইল এবং মঙ্গলগ্রহ ৬৮৬.৯৮ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে থাকে। পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহ উভয়ের প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে যখন সূর্যের এক পাশে পৃথিবী ও অপর পাশে মঙ্গল গ্রহ অবস্থান করবে তখন পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরুত্ব হবে ১৪১.৬+৯৩= ২৩৪.৬ মিলিয়ন মাইল। কিন্তু আদৌও বাস্তবক্ষেত্রে সূর্যের একপাশে পৃথিবী আর অপর পাশে মঙ্গল গ্রহ অবস্থান করে না কেন ? অথবা করবে না কেন ? পক্ষান্তরে পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য ও অপর পাশে মঙ্গল গ্রহ অবস্থান করবে তখন পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরুত্ব হবে ১৪১.৬-৯৩=৪৮.৬ মিলিয়ন মাইল। বিজ্ঞাণের ধারনা মোতাবকে মঙ্গলগ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করলে মঙ্গল গ্রহ কখনোই সূর্য ও পৃথিবীর মাঝ বরাবর অবস্থান করতে সক্ষম হবে না। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝ বরাবর অবস্থান করে কেন ? আবার মঙ্গল গ্রহ ও পৃথিবী প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে যখন মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে ২৩৪.৬ মিলিয়ান মাইল দুরের অবস্থান করবে তখন যে আকার আকৃতিতে দেখা যাবে তার চেয়ে বিশাল আকৃতিতে দেখা যাবে যখন মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে মাত্র ৪৮.৬ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করবে। অর্থাৎ মঙ্গল গ্রহ যখন মধ্যরাতে আকাশের মাঝখান বরাবর অবস্থান করে তখন বিশাল আকৃতিতে দেখা যায় না কেন ? আবার শীত গ্রীষ্মে পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে মঙ্গল গ্রহকে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা যায় না কেন ? মঙ্গল গ্রহকে সব সময় একই বরাবর দেখা যায় না কেন ?  পক্ষান্তরে প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবী থেকে শুক্রগ্রহ সর্বনিম্ন ২৫.৮ মিলিয়ন মাইল এবং মঙ্গল গ্রহ সর্বনিন্ম ৪৮.৬ মিলিয়ান মাইল দূরে অবস্থান করলে মঙ্গল গ্রহকে কেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ বলা হয় ? শুক্র গ্রহকে কেন পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ বলা যাবে না ?

বৃহস্পতি গ্রহ:
 সূর্য থেকে বৃহস্পতি গ্রহের দুরুত্ব ৪৮৩.৬ মিলিয়ন মাইল এবং গ্রহটি সূর্যকে ১১.৮৬ বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে। তাহলে পৃথিবী ও বৃহস্পতি গ্রহ প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবী থেকে বৃহস্পতি গ্রহ কখনো ৪৮৩.৬-৯৩=৩৯০.৬ মিলিয়ন মাইল দুরে, আবার কখনো ৪৮৩.৬+৯৩ = ৫৭৬.৬ মিলিয়ান মাইল দুরে অবস্থান করে না কেন ? অথবা করবে না কেন ? আবার পৃথিবী থেকে বৃহস্পতি গ্রহ যখন ৫৭৬.৬ মিলয়ন মাইলে দুরে অবস্থান করে তখন যে আকার আকৃতিতে দেখা যায় তার চেয়ে আরও অধিক বৃহৎ আকার আকৃতিতে দেখা যাবে যখন বৃহস্পতি গ্রহ পৃথিবী থেকে ৩৯০.৬ মিলয়ন মাইল দুরে অবস্থান করবে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে আদৌ কখনো বৃহস্পতি গ্রহকে ছোট বা বড় আকৃতিতে দেখা যায় না কেন ? সবসময় একই আকৃতিতে দেখা যায় কেন ? আবার পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারনেও বৃহস্পতি গ্রহকে শীত ও গ্রীষ্মে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা যায় না কেন ? সবসময় একই বরাবর দেখা যায় না কেন ?

শনি গ্রহ: 

সূর্য থেকে শনি গ্রহের দূরত্ব ৮৮৮.২ মিলিয়ন মাইল । গ্রহটি ২৯.৪৬ বছরে সূর্যকে একববার প্রদক্ষিণ করে। তাহলে বাস্তবক্ষেত্রে পৃথিবী ও শনি গ্রহের প্রদক্ষিণ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবী থেকে শনি গ্রহ কখনো ৮৮৮.২+৯৩=৯৮১.২ মিরিয়ন মাইল দুরে, আবার কখনো ৮৮৮.২ -৯৩=৭৯৫.২ মিলিয়ন মাইল দুরে অবস্থান করে না কেন ? অথবা করবে না কেন ? শনি গ্রহ যখন পৃথিবী থেকে ৭৯৫.২ মিলিয়ন মাইল দুরে থাকে তখন অতি বৃহৎ আবার যখন ৯৮১.২ মিলিয়ান মাইল দুরে অবস্থান করে তখন অতি ক্ষুদ্র দেখা যায় না কেন ? অথবা দেখা যাবে না কেন ? পৃথিবীর বার্ষিক গতির সময় পৃথিবী হেলে যাবার কারনে শনি গ্রহকেও সূর্যের মতই শীতকালে দক্ষিণ দিকে এবং গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকে দেখা যায় না কেন ? অথবা দেখা যাবে না কেন ? শীত গ্রীষ্মে সব সময় একই বরাবর দেখা যায় কেন ? প্রকৃত পক্ষে প্রত্যেকটি গ্রহ সব সময়ই পৃথিবী থেকে অভিন্ন দুরুত্বে অবস্থান করছে। অথচ গ্রহগুলো যদি সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় বা ঘুরে তাহলে প্রত্যেকটি গ্রহ প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে পৃথিবী থেকে ভিন্ন ভিন্ন দুরুত্বে অবস্থান করবে। যে জন্য পৃথিবী থেকে যে কোন গ্রহ বা নক্ষত্রের সঠিক দুরুত্ব নির্নয় করা কোন ক্রমেই সম্ভব হবে না। বাস্তবক্ষেত্রে যেহেতু প্রত্যেকটি গ্রহ সব সময় পৃথিবী থেকে অভিন্ন দুরুত্বে অবস্থান করছে সেহেতু গ্রহগুলো সূর্য কেন্দ্রীক নয় বরং পৃথিবী কেন্দ্রীক।

প্রকাশিত: দৈনিক তথ্য-খুলনা। ২৬শে ডিসেম্বর ১৯৯৫ইং। বিজ্ঞান সাপ্তাহিক অহরহ-ঢাকা। ১৭-২৩ জানুয়ারী ১৯৯৬ ইং।

নক্ষত্রগুলোও কি সূর্য কেন্দ্রিক ?

পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার । বিজ্ঞানের ধারণা মোতাবেক পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে প্রদনি করলে পৃথিবী প্রায় প্রত্যেকটি নক্ষত্র থেকে কখনো ৩০ কোটি কিমি দূরে আবার কখনো ৩০কোটি কিমি নিকটে অবস্থান করবে। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষণকালে যখন যে নক্ষত্র থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে যেতে থাকবে তখন সে নকে ক্রমশঃ ছোট দেখা যাবে। আবার পৃথিবী যখন ক্রমান্বয়ে যে নক্ষত্রের নিকতবর্তী হতে থাকবে তখন সে নক্ষত্রকে ক্রমশঃ বৃহৎ-অতিবৃহৎ দেখা যাবে। পৃথিবী প্রতিমুহর্তে কোন কোন নক্ষত্র থেকে দুরে আবার কোন কোন নক্ষত্রের নিকটবর্তী হওয়ার কথা। যেজন্য পৃথিবী থেকে অসংখ্য নক্ষত্রকে ক্রমশঃ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর আবার অসংখ্য নক্ষত্রকে ক্রমশঃ বৃহৎ হতে অতিবৃহৎ দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে একটা নক্ষত্রকেও আদৌ কখনও ছোট বা বড় দেখা যায় না কেন ? অথবা দেখা যাবে না কেন ?  সারা বছরই প্রত্যেকটি নক্ষত্রকে একই আকার বা আকৃতিতে দেখা যায় কেন ? যেমন- সপ্তর্ষীমন্ডল (সাত তাঁরা) ও ক্যাসিওপিয়া (তিন তাঁরা) নক্ষত্র গোটা বিশ্ববাসীর খুবই পরিচিত নক্ষত্র। বিজ্ঞানের ধারণা অনুযায়ী পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ কালে যখন সূর্যের একপাশে পৃথিবী আর অপর পাশে সপ্তর্ষীমন্ডল বা ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্র অবস্থান করবে তখন যে দুরত্বের ব্যবধানে থাকবে তার চেয়ে ৩০কোটি কিলোমিটার অধিক নিকটবর্তী অবস্থান করবে যখন পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অপর পাশে সপ্তর্ষী মন্ডল বা ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্র থাকবে। অর্থাৎ ছয়মাস যাবৎ সপ্তর্ষীমন্ডল বা ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রকে ক্রমশঃ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বা ছোট থেকে ছোট দেখা যাবে। আবার ছয়মাস যাবৎ একটানা ক্রমশঃ বৃহৎ হতে অতিবৃহৎ দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে  গোটা বিশ্বের কেহ কি কোনদিন সপ্তর্ষীমন্ডল অথবা ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রকে বিন্দুমাত্র ছোট বা বড় দেখেছেন ? সারা বছর একই আকার বা আকৃতিতে দেখা যায় কেন ? পৃথিবী হেলে যাওয়ার কারণে সূর্যকে উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা গেলে সপ্তর্ষীমন্ডল বা ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রকেও উত্তর বা দক্ষিণ দিকে দেখা যায় না কেন ? অথবা দেখা যাবে না কেন ? আকাশের কোন্ নক্ষত্রটি সূর্যের মতই কখনও ছোট আবার কখনও বড়, কখনও উত্তর দিকে আবার কখনও দক্ষিণ দিকে দেখা যায় ? সেকেন্ডে ৩০ কিমি বেগে ধাবিত পৃথিবী আকাশের কোন্ নক্ষত্র থেকে প্রতি মূহুর্তে ভিন্ন ভিন্ন দুরত্বে অবস্থান করছে ? পক্ষান্তরে পৃথিবীর উত্তর মেরু বরাবর একটা নক্ষত্রকে (ধ্র“বতাঁরা) সব সময় একই স্থানে দেখা যায়। তাহলে বিজ্ঞানের ধারণা মতে পৃথিবী বার্ষিক গতির সময় শীতকালে ৪৭ ডিগ্রি উত্তর দিকে হেলে যাওয়ার কারণে ধ্র“বতাঁরাকে ৪৭ ডিগ্রী উত্তরে দেখা যায় না কেন ? অথবা যাবে না কেন ? আবার পৃথিবী গ্রীষ্মকালে ৪৭ ডিগ্রী অধিক দক্ষিণ দিকে হেলে যাওয়ার কারণে ধ্র“বতাঁরাকে ৪৭ ডিগ্রী নীচের দিকে দেখা যায় না কেন ? অথবা যাবে না কেন ?  তাহলে পৃথিবী কি আকাশের সকল নক্ষত্রসহ সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে ?

প্রকৃতপক্ষে সূর্য সেকেন্ডে প্রায় ১১০০০ (এগার হাজার) কিলোমিটার গতিতে অর্থাৎ ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিটে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করছে এবং তার বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় (নিউটনের তৃতীয় সূত্র) প্রায় ২৫ দিনে আপন অক্ষের উপর একবার ঘুরছে। অপরদিকে চন্দ্র প্রায় ২৫ ঘন্টায় পৃথিবীকে একবার  প্রদক্ষিণ করছে এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় প্রায় ২৯ দিনে আপন অক্ষের উপর একবার ঘুরছে। গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর দিকে আবস্থান পূর্বক সবচেয়ে বেশী দূরের থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে বিধায় দিন লম্বা হচ্ছে এবং শীতকালে দক্ষিণ দিকে এবং নিকটে থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে বিধায় দিন ছোট হচ্ছে। পক্ষান্তরে শীতকালে রাত লম্বা বিধায় চন্দ্র উত্তর দিকে অবস্থান পূর্বক পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে এবং গ্রীষ্মকালে রাত ছোট বিধায় চন্দ্র দক্ষিণ দিকে অবস্থান পূর্বক পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। কারণ গোটা সৃষ্টি জগতের মধ্যে পৃথিবীই কেন্দ্র বিন্দু।

পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য: 

মাত্র একটা শুক্রকীট থেকে যেমন একজন মানুষ সৃষ্টি তেমনি মুহাম্মদ (সাঃ) এর থেকেই সৃষ্টি জগতের সব কিছুই সৃষ্টি। বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষ ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর থেকেই সৃষ্টি বিধায় প্রত্যেকটি মানুষ মাতৃগর্ভে আরবি শব্দ মুহাম্মদ আকৃতিতে অবস্থান করে থাকে। এমনকি মানুষ যে শুক্রকীট থেকে সৃষ্টি সে শুক্রকীটটিও আরবি শব্দ মুহাম্মদ আকৃতি বিশিষ্ট। প্রত্যেকটি মানুষ প্রথমে মাতৃগর্ভে তরল অবস্থায় থাকে অতঃপর জমাট রক্তে পরিনত হয় অতঃপর মাংস পিন্ডে পরিশেষে পূর্ণাঙ্গ মানব আকৃতিতে ভূমিষ্ট হয়। (আমি মানুষকে মাটির সারাংশ হইতে সৃষ্টি করিয়াছি। তৎপর আমি তাহাকে বীর্য হইতে সৃষ্টি করিয়াছি, যাহা এক সুরতি স্থানে ছিল। অতঃপর আমি উক্ত শুক্রকীটকে জমাট রক্তে পরিনত করিলাম, অত:পর আমি উক্ত জমাট রক্তকে মাংস পিন্ডে পরিনত করিলাম, অতঃপর উক্ত মাংস পিন্ডকে হাড় সমূহে রূপান্তরিত করিলাম। পরে উক্ত হাড়গুলিতে মাংস জড়াইলাম, তৎপর আমি উহাকে গড়িয়া তুলিলাম অন্য এক সৃষ্টি রূপে। –সূরা মু’মিনুন ১২, ১৩ ও ১৪ নং আয়াত)। ঠিক একইভাবে পৃথিবীও সৃষ্টি। মানুষের জন্ম বৃত্তান্ত আর পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য হুবহু একই রূপ। বিন্দু মাত্র পার্থক্য নেই বললেও ভুল হবে না। পৃথিবীও সৃষ্টির প্রথমে আল্লাহর আরশের নিচে তরল অবস্থায় ছিল। (তিনি এমন যে, সমস্ত আসমান ও যমীনকে পয়দা করিয়াছেন ৬ দিবসে এবং সেই সময় তাঁহার আরশ পানির উপরে ছিল ; সূরা হূদ ৭নং আয়াত)। অতঃপর জমাট রক্তের মত অর্থাৎ পঁচা কাঁদা অত:পর মাংস পিন্ডে অর্থাৎ খনখনে মাটিতে পরিনত করা হয়। (নিশ্চয়ই আমি মানবকে খনখনে মাটি দ্বারা যাহা পঁচা কাদা হইতে তৈরি-সৃষ্টি করিয়াছি। সূরা হিজর ২৬ নং আয়াত)। অতঃপর পূর্ণাংগ মানব আকৃতিতে অর্থাৎ পৃথিবীতে পর্বত মালা স্থাপন, উদ্ভিদ, প্রাণী ও নানবিধ উপকারী পদার্থ সমূহ স্থাপন করা হয়। (সূরা হামীম-আসসজদাহ-১০,১১ ও ১২ নং আয়াত)। অতঃপর মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার মতই পৃথিবীও আল্লাহর আরশ থেকে পৃথক বা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। (আসমান ও যমীন বন্দ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলিয়া দিলাম-সূরা আম্বিয়া ৩০ নং আয়াত)।

শক্তির নিত্যতা নীতি ও গতিশক্তি অনুসারেও মানব দেহ ও পৃথিবী সৃষ্টির মধ্যে পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে। মানব দেহে চর্ম বা ত্বক আছে- পৃথিবীতেও ভূ-ত্বক আছে। দেহে মাংস আছে- ভূস্তর আছে। দেহে হাড় আছে- পৃথিবীতে শিলা আছে, দেহে রক্ত আছে- পৃথিবীতে পানি আছে, দেহে ধমনী -শিরা- উপশিরা আছে, পৃথিবীতে মহাসাগর-সাগর-নদী আছে, দেহে রক্তের সংকোচন সম্প্রসারন হয়-পৃথিবীতে জোয়ার- ভাটা হয়, দেহের মধ্যে হৃদপিন্ড আছে- পৃথিবীর হৃদপিন্ড কাবাঘর আছে, দেহের বিভিন্ন অংশ স্পন্দিত হয়-পৃথিবী বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প হয়, সহবাসে বা দৈহিক মিলনে মানুষের বীর্যপাত ঘটে- পৃথিবীতে অনুভূমিক বা গিরিজনি আলোড়ন হয়, মাতৃগর্ভ থেকে সন্তান ভূমিষ্ট হয়-পৃথিবীতে মহিভাবক আলোড়ন হয়, মানুষের পেটে গ্যাস হয়-ভূ-অভ্যন্তরে গ্যাস হয়, মানুষ প্রস্রাব করে- ভূগর্ভ থেকে তরল খনিজ সম্পদ বের করা হয়, মানুষ পায়খানা করে-ভূগর্ভ থেকে কঠিন খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা হয়। দেহের উপর মাথা আছে-পৃথিবীর উপর আসমান আছে। এক কথায় অসংখ্য কোষের সমষ্টি মানব দেহ আর অসংখ্য মানব দেহের  সমষ্টি পৃথিবী। অর্থাৎ পৃথিবীর গতি শক্তি (ক.ঊ) মানুষ। যে জন্য মানুষের মতই এ পৃথিবীও এক সময় শিশু ছিল, কিশোর ছিল, যুবক ছিল-তখন পৃথিবী মানুষের মতই আয়তনে বৃদ্ধি পেয়েছিল (তিনি এমন যে, তিনি পৃথিবীকে প্রসারিত করিয়াছেন-সূরা রাদ ৩ নং আয়াত)। বর্তমানে পৃথিবী বৃদ্ধ মানুষের মতই বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে। পৃথিবী বৃদ্ধ মানুষের মতই চারিদিক থেকেই য় প্রাপ্ত হচ্ছে (তাহারা কি ইহা দেখিতেছে না যে, আমি যমীন কে উহার চতুর্দিক হইতে সংকীর্ন করিয়া আনিতেছি-সূরা আম্বিয়া ৪৪ নং আয়াত।) সুষম খাদ্য আর ঔষধ- পথ্য যেমনী বৃদ্ধ মানুষের ক্ষয়রোধ বা মৃত্যুকে রোধ করতে পারে না-তেমনি উন্নত প্রযুক্তি আর সকল প্রকার চেষ্টা সাধনাও পৃথিবীর ক্ষয়রোধ করতে বা পৃথিবীকে ধ্বংস অর্থাৎ কেয়ামতকে রুখতে পারবে না। অচিরেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে অর্থাৎ কেয়ামোত শুরু হয়ে যাবে (কেয়ামত নিকটে আসিয়া পড়িয়াছে এবং চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হইয়া গিয়াছে-সূরা ক্বমার-১নং আয়াত।) প্রকাশিত সাপ্তাহিক সমুসলিম জাহান-ঢাকা,বর্ষ-৬ ; সংখ্যা ৬; বুধবার ১৫-২১মে ১৯৯৬ ইং।

রাত দিন সৃষ্টির রহস্য: 

পৃথিবী স্থির। অর্থাৎ পৃথিবীর আহ্নিক গতি বা বার্ষিক গতি সম্পূর্ন ভূল। কেননা পৃথিবীতে অবস্থিত কাবাঘর আর আসমানে অবস্থিত বায়তুল মামুর একই সোজা। কখনো বিন্দু মাত্র এদিক সেদিক হয়না। অবশ্য সূরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াত (তিনি এমন মতাবান যিনি রাত দিন সূর্য ও চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন; প্রত্যেকে নিজ নিজ কপথে সাঁতার কাটছে) এর উপর ভিত্তি পূর্বক অনেকে ধরনা করে তাকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারনেই রাত দিন হয়ে থাকে। তাদের এই ধারনা আদৌও সঠিক নয়। কারন নারী পুরুষ পরস্পরের সাথে দৈহিক ভাবে মিলিত হলে যেমনি একজন মানুষের জন্মের সূচনা হয়, ঠিক তেমনি রাত ও দিন পরস্পরের সাথে মিলিত হলে সুবেহ সাদিক (ভোর) শুরু হয়। মানুষ যেমনি মার্তৃগর্ভে ক্রমশঃ রুপান্তরিত হতে হতে এক সময় মার্তৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়। ঠিক তেমনি আঁধারও বিদূরিত হতে হতে এক সময় সূর্য উদয় হয়। সূর্য উদয়ের পর যেমনি এক সময় দূপুর হয়, বিকাল হয় অত:পর সূর্য অস্ত যায়। ঠিক তেমনি মানুষও জন্মের পর যুবক হয়, বৃদ্ধ এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার মতই পৃথিবী থেকে চির বিদায় গ্রহন করে। সূর্য যেমন কখনোই স্থির নেই ,সব সময়ই চলছে বা ঘুরছে- মানূষের বয়সও তেমন কখনোই স্থির নেই, সব সময়ই চলছে। সূর্য উদয় হলে যেমন অস্ত যায় – মানুষও তেমন জন্মালে অবশ্যই মারা যায়। কোনদিনই যেমন সূর্য উদয় হওয়া ও অস্ত যাওয়া বন্ধ নেই-তেমন মানুষের ও জন্ম ও মৃত্যু কখনো বন্ধ নেই। প্রতি মূহুর্তে সূর্য যেমন পৃথিবীর কোথাও না কোথাও উদিত হচ্ছে আবার প্রতিমূহুর্তে কোথাও না কোথাও অস্ত যাচ্ছে- তেমন প্রতিমূহুতে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও মানুষ জন্ম গ্রহন করছে আবার প্রতিমূহর্তে কোথাও না কোথাও মানুষ মৃত্যুবরন করছে । এক কথায় সূর্য উদয় হওয়া ও অস্ত যাওয়া মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর নমুনা মাত্র। “আল্লাহ দিন ও রাতকে পরিবর্তর করেন ; তাতে জ্ঞানবানদের জন্য তাওহীদের প্রমান রয়েছে” (সূরা নূর -৪৪ নং আয়াত)।

পান্তরে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও যেমন কিছুন রক্তিম (লাল) আভা বা গোধুলি লগ্ন বিরাজমান থাকে এবং পরিশেষে আঁধারের পরিপূর্নতা শুরু হয়- ঠিক তেমনী মানুষের মৃত্যুর পরই শুরু হয় বরঝাক বা কবর জীবন এবং পরিশেষে গোধুলীর বিদায় লগ্নের মতই শেষ হয়ে যাবে বরঝাক বা কবর জীবনও । অর্থাৎ মৃত্যুর পর দেহ যেমন পঁচে-গেলে নি:শেষ বা ধ্বংস হয়ে যায় ঠিক তেমনই বরঝাক জীবন শেষে রাতের আঁধার শুরুর মতই পৃথিবীরও ধ্বংস (কিয়ামত) হয়ে অনাদী অনন্ত কালের জীবন শুরু হবে। রাত যেমন অন্ধকারময় নতুবা চন্দ্রের আলোয় আলোকময় হয়- তেমন মানুষের মৃত্যুর পরের জীবনও আযাব-গজবময় নতুবা চন্দ্রের আলোর মতই আলোকময় অর্থাৎ আরাম আয়েশের বা শান্তিময় হবে। কোন কোন দিন  আলোকময় হয় তেমন মানুষের মৃত্যুর পরের জীবনও আজাব গজবময় নতুবা চন্দ্রের আলোর মতই আরাম-আয়েশ বা শান্তিময় হবে। কোন কোন দিন সূর্য অস্তের পরপরই যেমন চন্দ্রকে দেখা যায় ঠিক তেমন মৃত্যুর পরপরই কোন কোন মানুষ শান্তি বা আরাম-আয়েশ ভোগ করবে। পূর্নিমার পূর্ব পর্যন্ত যেমনী প্রতিদিন চন্দ্র একটু একটু পরে অস্ত যায় তেমনী কোন কোন মানুষ ভালো আমল করার কারণে মৃত্যুর পর থেকেই আরাম আয়েশ উপভোগ করতে থাকবে। কিন্তু অন্যের হক নষ্ট করার কারনে নিজের সমুদয় নেক আমল পাওনাদারকে দিয়ে পাওনাদারের সকল পাপকে নিয়ে আজাব-গজবে পতিত হবে। দীর্ঘ ৫০ হাজার বছরকাল ব্যাপী বিচারকার্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অনেকেই হক নষ্ট করার দায়ে আরাম-আয়েশের জীবন থেকে আজাব গজবের জীবনে প্রবেশ করবে। আবার কোন কোন দিন যেমন সূর্য অস্ত যাওয়ার কিছুন পর চন্দ্রকে উদিত হতে দেখা যায় ঠিক তেমন কোন কোন মানুষ মৃত্যুর পর কিছুদিন শাস্তি বা আযাব-কষ্ট ভোগ করার পর শান্তি বা আরাম-আয়েশ উপভোগ করবে। এমনি ভাবে চন্দ্র যেমন প্রতিদিন একটু একটু দেরীতে উদিত হয় ঠিক তেমন মৃত্যুর পরও এক এক শ্রেনীর মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে শাস্তি বা আযাব-কষ্ট ভোগ করার পর শান্তি বা আরাম-আয়েশ উপভোগ করবে। আমাবশ্যার রাতে যেমন বিন্দুমাত্র চন্দ্রের আলোই থাকে না তেমন কোন মানুষ মৃত্যুর পর অনাদী অনন্তকাল যাবত শাস্তি বা আযাব-কষ্ট ভোগ করবে ’বিন্দু মাত্র আরাম-আয়েশ ভোগ করতে পারবে না। অনুরূপ পূর্নিমার রাতে যেমন সন্ধ্যা থেকে সারা রাতই চন্দ্রের আলো থাকে বিন্দুমাত্র আঁধার থাকে না ঠিক তেমন মৃত্যুর পর পরই কোন কোন মানুষ শান্তি বা আরাম-আয়েশ ভোগ করা শুরু করবে বিন্দুমাত্র শাস্তি বা আযাব-কষ্ট তারা কখনই ভোগ করবে না। মানুষ দিনের বেলায় যেসব খাদ্র দ্রব্য সংগ্রহ করে রাতে সে সেসব খাদ্র দ্রব্যই ভন করে। অনুরূপ মানুষও সারা-জীবন যে যেমন কর্ম করবে মৃত্যুর পর সে তেমনই ফল ভোগ করবে। “তিনি এমন যিনি তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যেন তোমরা স্বস্তি লাভ কর; আর দিনকে এমন ভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তা হচ্ছে দেখা শোনার উপকরন; তাতে তাওহীদের প্রমান সমূহ রয়েছে, তাদের জন্য যারা শোনে”(সূরা ইউনুছ-৬৭নং আয়াত)। “আর তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তোমাদের জন্য রাত ও দিনকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরনা রাতে আরাম কর এবং দিনে তার দেয়া জীবিকা অন্বেষন কর”- (সূরা ক্বাছাছ-৭৩ নং আয়াত)। অবশ্য যদিও সূর্য অস্ত যেয়ে রাত হতে দেখা যায় তবুও সূর্য একেবারেই অদৃশ্য হয়ে যায় না। অন্য কোথাও না কোথাও সূর্যকে দেখা যায় ঠিক তেমনী মানুষ মারা গেলেও বা মরে যাওয়া মানুষ অন্য কোথাও না কোথাও সূর্যের মতই দৃশ্যমান থাকে বা জীবিত থাকে। একেবারে ধ্বংস বা নিস্ব:শেষ হয়ে যায় না। (বরঝাক জীবন)। অনুরুপ ভাবে সূর্য উদয়ের পূর্বে যেমনি অন্য কোথাও না কোথাও সূর্যের অস্তিত্ব থাকে বা দৃশ্যমান থাকে ঠিক তেমনি জন্মের পূর্বে কোথাও না কোথাও অস্বিত্ত থাকে বা দৃশ্যমান থাকে (আলমে আরওয়া)। উদয় হওয়া ও অস্ত যাওয়ার সময় নিজতেজতা পরিলতি হলেও প্রকৃত পে সূর্যের প্রখরতা ও তেজক্রিয়তা যেমনি বিন্দুমাত্র  হ্রাস বা বৃদ্ধি হয় না, ঠিক তেমনি জন্ম ও মৃত্যর সময়ও মানুষের রুহু বা আত্মা বা জীবনী শক্তির বিন্দু মাত্র তারতম্য ঘটে না (শক্তির নিত্যতা)। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত মানুষ জন্ম গ্রহন করেছে এবং পৃথিবীর ধ্বংস বা কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যত মানুষই জন্মাবে প্রত্যেকের রুহু বা আত্মা আলমে আরওয়া মধ্যে সংরতি। প্রত্যেকটি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমূদয় দৈহিক শক্তি আলমে আরওয়ার মধ্যে সংরতি নতুন করে কারো দৈহিক শক্তি বা আত্মা সৃষ্টি করা হয় না। আলমের আরওয়া থেকে কোন মানুষের রুহু বা আত্মা বা দৈহিক শক্তি বের হওয়া শুরু করলে সে জন্মলাভ করে এবং আলমের আরওয়া থেকে দৈহিক শক্তি আসা বন্ধ হয়ে গেলে সে মারা যায়। (শক্তির নিত্যতা)।

সূর্য সৃষ্টির রহস্য: 

বিজ্ঞান সূর্য সৃষ্টি সর্ম্পকে যে তথ্য প্রদান করেছে তা আদৌ নির্ভুল নয়। কারণ বিজ্ঞানীদের বাস্তব পরিক্ষীত জ্ঞান চন্দ্র পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। যে জন্য সূর্য সম্পর্কে বিজ্ঞান যে ধারণামূলক তথ্য প্রধান করেছে তা সঠিক বলে গণ্য হতেই পারে না। কিন্তু মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাস্তব পরিক্ষীত জ্ঞান ছিল সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আরশ পর্যন্ত। যা কল্পনা করার জ্ঞান ও এ যুগের বিজ্ঞানীদের নেই। সামান্য মঙ্গলগ্রহ অভিযান (সফল করা) নিয়ে তারা নাকানী চুবানী খাচ্ছে। অথচ মুহম্মদ (সাঃ) এর নিকট এসব অভিযান ছিল একেবারেই তুচ্ছাতিতুচ্ছ। তাহলে তিনি সূর্য সৃষ্টি সস্পর্কে যে তথ্য প্রদান করেছেন তা নিশ্চয়ই সম্পূর্ণ নির্ভুল হবে। কেননা তিনি যে তথ্য প্রদান করেছেন তা তাঁর বাস্তব পরিক্ষীত। বোখারী শরীফের ৩২৮ নং হাদীসে বর্ণিয়ত আছে- “আবু হুরায়রা (রাঃ)তে বর্ণিত হযরত মুহম্মদ (সাঃ) ফরমায়েছেন, যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তখন যোহরের নামাজ একটু দেরী করে ঠান্ডার সময় পড়, কারণ অত্যাধিক তাপমাত্রা জাহান্নামের অগ্নিশিখার উত্তাপ। জাহান্নামের অগ্নি একবার আল্লাহর দরবারে নালিশ দায়ের করলো- হে পরওয়ারদিগার; আমরা সর্বদা জাহান্নামের বেষ্টনীর মধ্যে আবদ্ধ আছি। আপনার অনুমতি ব্যাতীত আমরা বাইরের দিকে নি:শ্বাস ও ত্যাগ করতে পারিনা। আমাদের সমস্ত উত্তাপ এই বেষ্টনীর ভিতরেই আবদ্ধ। তাই আমরা একে অন্যের দ্বারা ভস্ম হচ্ছি। তখন আল্লাহ দু’প্রকারের জাহান্নামকে দুটো নি:শ্বাস বাহিরের দিকে ছাড়বার অনুমতি দান করলেন। একটা গ্রীষ্মকালে ও অপরটা শীতকালে। গ্রীষ্মকালের অত্যাধিক উত্তাপ যা জাহান্নামের গরম নিশ্বাস থেকে উৎপত্তি হয় এবং শীতকালের অধিক ঠান্ডার প্রকোপও জাহান্নামের ঠান্ডা নি:শ্বাস হতে উৎপত্তি হয়। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সূর্য যখন সুমেরুর দিকে অর্থাৎ পৃথিবীর উপর লম্বভাবে বা খাড়া ভাবে কিরন দেয় তখন গরম লাগে বা গ্রীষ্মকাল হয়। আর সূর্য যখন কুমেরুর দিকে অর্থাৎ পৃথিবীর উপর তীর্ষকভাবে বা বাঁকাভাবে কিরণ দেয় তখন ঠান্ডা লাগে বা শীতকাল হয়। বিজ্ঞানের এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ শীতকালে সূর্য গ্রীষ্মকালের তুলনায় পৃথিবীর ৫ মিলিয়ন কি.মি. অধিক নিকটে অবস্থান করে থাকে। অর্থাৎ ৪ঠা জুলাই বা গ্রীষ্মকালে সূর্য পৃথিবী থেকে ১৫২ মিলিয়ন কি.মি. দূরে এবং ৩রা জানুয়ারী বা শীতকালে ১৪৭ মিলিয়ন কিমি দূরে অবস্থান করে থাকে। তাহলে নিশ্চয়ই গরমকালের তুলনায় শীতকালে অধিক গরম অনুভূত হবে। কারন হিটার যত নিকটে থাকবে গরম তত বেশীই লাগবে। আবার হিটার যত দুরে থাকবে গরমও তত বেশী লাগবে বা ঠাণ্ডা বেশী লাগবে। কিন্তু সূর্যের ক্ষেত্রে  ঘটছে তার বিপরীত। অর্থাৎ সুমেরু কুমেরুর দিকে বা পৃথিবীর অধিক নিকটে বা দূরে সূর্যের অবস্থানের ফলে শীত গ্রীষ্ম বা ঋতু পরিবর্তন হয় না। প্রকৃতপে ঋতু পরিবর্তনের কারন হলো-জাহান্নাম দু প্রকার। এক প্রকার  জাহান্নাম ভীষন গরম ও আর এক প্রকার জাহান্নাম খুব ঠাণ্ডা। দেহের ভিতর অবস্থিত ফুসফুসের ভিতর থেকে যেমনই গরম ঠাণ্ডা হাওয়া বা নিঃশ্বাস নাক দিয়ে বের হয়ে আসছে ঠিক তেমনী আল্লাহর আরশের নীচে সুবর্ণ সেজদারত বা অবনত দু’প্রকার জাহান্নামের উপরের গরম ও ঠাণ্ডা হাওয়া বা নিঃশ্বাস সূর্যে ভেতর দিয়ে বের হয়ে আসছে। ফুসফুসের ভিতর থেকে বের হয়ে আসা ঠাণ্ডা ও গরম হাওয়া বা নিঃশ্বাস যেমনই গরম অনুভূত হয় ঠিক তেমনই সূর্যের ভিতর দিয়ে বের হয়ে আসা ঠাণ্ডা ও গরম হাওয়া বা নিঃশ্বাস বা সূর্যের কিরন শীত গ্রীষ্মে উভয় সময়ই গরম অনুভূত হয়। ফুসফুসের ভেতরের ঠান্ডা হাওয়া বের হওয়ায় নাক যেমনই ঠাণ্ডা বা শীতল বা ধ্বংস হয়ে যায় না, ঠিক তেমনী সূর্যের ভিতর দিয়েও জাহান্নামের, ঠাণ্ডা হাওয়া বের হয়ে আসায় সূর্যও শীতল বা শীতল বা ধ্বংস হয়ে যায় না। ফুসফুসের ভিতর থেকে কোন্ পথে বা কিভাবে নাক দিয়ে হাওয়া বা নিঃশ্বাস বের হয় তা যেমনই সকলে জানেন না তেমনই জাহান্নামে থেকে সূর্যের ভিতর দিয়ে কিভাবে এবং কোন্ পথে হাওয়া বা নিঃশ্বাস বের হয়ে আসছে তা অন্তর চোখ খোলা না থাকলে দেখা যায় না। নাক যেমনই দেহের অবিচ্ছেদ্য অংশ সূর্যও তেমনই জাহান্নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে জন্য কেয়ামতের দিন সূর্যকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে (হাদীস-মেশকাত শরীফ)। এক কথায় সূর্য জাহান্নামের নাক। আর আল্লাহ কর্তৃক জাহান্নাকে নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি প্রদান করার অর্থই সূর্যকে সৃষ্টি করা (কুন ফায়া কুন )। যেন সূর্যের ভিতর দিয়ে জাহান্নামের হাওয়া বা নিঃশ্বাস বের হয়ে আসতে পারে। অর্থাৎ ঋতু পরিবর্তন হতে পারে। অবশ্য ফুসফুসের ভিতর থেকে যেমনী নাক দিয়ে একবার ঠাণ্ডা নিঃশ্বাস বের হয় এবং পরের বার গরম নিঃশ্বাস বের হয় ঠিক তেমনী জাহান্নাম থেকেও সূর্যের ভিতর দিয়ে একবার ঠাণ্ডা হাওয়া বা নিঃশ্বাস বের হয় এবং পরের বার গরম হাওয়া নিঃশ্বাস বের হয়। যে জন্য শীতের শুরুতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে বিগত দিনের তুলনায় বেশী গরম অনুভূত হয়। কারন সূর্যের ভিতর দিয়ে বের হয়ে আসা ঠাণ্ডা হাওয়া মেঘে বাধাপ্রাপ্ত হয়। আবার শীতের শেষে বা গরমের শুরুতে আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে পূর্বের দিনের তুলনায় সেদিন ঠাণ্ডা বা শীত বেশী অনুভূত হয়ে থাকে। কেননা ঐ সময় সূর্যের ভিতর দিয়ে বের হয়ে আসা জাহান্নামের গরম হাওয়া মেঘে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। (প্রকাশিত -সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান-ঢাকা)

সহীহ হাদিসের আলোকে: 

আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা প্রথম আসমানকে সুসজ্জিত করেছেন নক্ষত্ররাজি দিয়ে। আর বিশ্বের বিজ্ঞানীদের ধারনায় আসমানে একশ কোটি নক্ষত্র রয়েছে। সূর্যও আসমানের একটা নক্ষত্র। সূর্য থেকে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে সূর্যের আকর্ষনে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে বছরে একবার ঘুরছে তাকে বার্ষিক গতি বলা হয় এবং পৃথিবী আপন অক্ষের উপর দিনে একবার ঘুরছে। তাকে আহ্নিক গতি বলা হয়। অথচ কুরআন হাদীছে পৃথিবী চলছে বা ঘুরছে এমন কোন কথাই উল্লেখ নেই। বরং “সায়েদুল মুরছালিন” কিতাবের প্রথম খন্ডের ২৩৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে “সপ্তম আসমানের উপরে বায়তুল মামুর এবং যমীনের উপর কাবাঘর সবসময় একই বরাবরে অবস্থিত। যদি বায়তুল মামূর পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো। তবে তা ঠিক কাবা ঘরের উপরই পড়তো। অর্থাৎ সপ্তম আসমানের উপরে বায়তুল মামুর এবং সৌদি আরবের মক্কার কাবা ঘর সব সময় একই বরাবর বা একই সোজাসুজি অবস্থান করছে। কখনো এক মুহুর্তের জন্য এদিক সেদিক হয় না। অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে “আসমানের দরজাগুলো কাবাঘর বরাবর” এসব হাদীছ গুলো বিশ্লেষন করলে পৃথিবীর আহ্নিক গতি বা বার্ষিক গতি কোনটাই কল্পনা করা যায় না। আসমান সহ সপ্তম আসমানের উপরের বায়তুল মামূরকে নিয়ে নিশ্চয়ই সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে না। যেহেতু সূর্যইতো পৃথিবী ও প্রথম আসমানের মধ্যে আবদ্ধ। তাহলে বৈজ্ঞানিক গ্যালিলিও এর তথ্য পৃথিবীর আহ্নিক গতি-বার্ষিক গতি সঠিক? নাকি মুহাম্মদ (সাঃ) এর হাদীছ সঠিক? মূলতঃ যারা পৃথিবী আহ্নিক গতি-বার্ষিক গতিকে বিশ্বাস করে তারাতো মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপরও হাদীছ গুলো অবিশ্বাস বা অস্বীকার করে, অথচ মুসলীম শরীফের একটা হাদীছ নিম্ন রূপ: –

“হযরত আনাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, “ততক্ষন পর্যন্ত কিয়ামত আসিবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়াতে আল্লাহ্ বলা বন্ধ হয়ে যায়”। অর্থাৎ এ পৃথিবীতে আল্লাহ্ বলার মত একজন লোক থাকতে কিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর একটা হাদীছে আসছে “নিকৃষ্ট লোকদের উপরই কিয়ামত কায়েম হবে”। এক কথায় কিয়ামত কায়েম হবে শুধুমাত্র এ পৃথিবীতে আল্লাহ্ আল্লাহ্ বলা লোক না থাকার কারণে। অবশ্য পবিত্র কুরআন বা হাদীছে এমন কোন উল্লেখ নেই যে, অন্য কোথাও আরও দু’একটা পৃথিবী আছে বা অন্য কোথাও কোন জীব জন্তু বা কোন প্রাণী আছে আর তাদের কারণেও কিয়ামত সংঘটিত হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করছে। বরং এ পৃথিবীর কারণে কিয়ামত হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করছে। চন্দ্র সূর্য নক্ষত্র  সাত আসমান কোন কিছুর উপরই কিয়ামত নির্ভর করছে না। কিয়ামত নিভর করছে শুধুমাত্র এ পৃথিবীরই উপর। অর্থাৎ পৃথিবীর উপরই নির্ভর করছে চন্দ্র, সূর্য নত্র সমূহ এবং সাত আসমানের অস্তিত্ব। কেননা কিয়ামতের দিন সাত আসমান যমীন চন্দ্র, সূর্য নক্ষত্র সমূহ, ধ্বংস্তুপে পরিনত হবে। তাই এ পৃথিবী আদৌ কখনও চন্দ্র সূর্য নক্ষত্র বা আসমান সমূহের অস্তিত্বের উপর  কোন ক্রমেই নির্ভরশীল নয়। বরং চন্দ্র সূর্য নত্র সমূহ এবং সাত আসমানকে এ পৃথিবীর উপকারার্থে সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব কিছুই পৃথিবীর উপকার সাধন করে থাকে। কিন্তু পৃথিবী এদের কোন প্রকার উপকারই করে না। চন্দ্র সূর্যতো পৃথিবীকে আলো দান করে, রাত দিন করে, কিন্তু পৃথিবী চন্দ্র সূর্যকে কি দিয়ে থাকে? আসমানতো পৃথিবীকে বৃষ্টি দান করে থাকে। পৃথিবী আসমানকে কি দিয়ে থাকে ? নক্ষত্রগুলোতো রাতের আঁধারে পৃথিবীকে দিক ঠিক করে দিয়ে থাকে। পৃথিবী নত্রকে কি দিয়ে থাকে? আসলে চন্দ্র, সূর্য নক্ষত্রসমূহ এবং সাত আসমান পৃথিবীর খেদমতে নিয়োজিত এক কথায় খাদেম। পৃথিবীর কাছে এ সব গুলো একেবারেই নগন্য। কারণ চন্দ্র সূর্য নত্রসমূহ সাত আসমান যমীন সহ সৃষ্টি জগতের সব কিছুই রাসূল মুহাম্মদ (সঃ) এর থেকেই সৃষ্টি। মাত্র একটা শুক্রকীট থেকে যেমনি একজন মানুষ সৃষ্টি তেমনী মুহাম্মদ (সাঃ) থেকেই সৃষ্টি জগতের সৃষ্টি বিধায় মুহাম্মদ (সঃ) আজীবন ছায়াহীন ছিলেন। সূর্য কখনই তাঁর ছায়া ফেলতে পারেনি। তিনিই সৃষ্টির উৎস্য বিধায় তিনি রাতে ও দিনে একই রকম দেখতে পেতেন। একই কারণে তিনি চার লক্ষাধিক কিলোমিটার দূরের পৃথিবীর পঞ্চাশ ভাগের একভাগ চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করেছিলেন। (কিয়ামত নিকটবর্তী চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে সূরা ক্বামার প্রথম ও দ্বিতীয় আয়াত)। খন্দকের যুদ্ধের সময় খন্দক খনন কাজে ব্যস্ত থাকার দরুন হযরত আলী (রাঃ) এর আসর নামাজ পড়তে বিলম্ব হয়ে গিয়েছিল। সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। হযরত আলী (রাঃ) অস্ত না যাওয়ার জন্য সূর্যকে বিনয় নয় ধমক দিয়েছিলেন।ধমক খেয়ে সূর্য হযরত আলী (রাঃ) এর নামাজ শেষে অস্ত গিয়েছিল। আর এসব ঘটনাই প্রমাণ করে যে, পৃথিবী স্থির এবং সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে।

পবিত্র কুরআনের আয়াত কি ভুল: 


১.বিজ্ঞানের ভাষায় পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর দিনে এবার ঘুরছে। পক্ষান্তরে কোরআনের সূরা বাকারা এর ২৫৫ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তাহার কুরশী আসমান সমূহ এবং যমীনকে নিজের মধ্যে ধারণ করিয়া রাখিয়াছে। আর আল্লাহর পক্ষে এতদুভয়ের হেফাজত কিছুমাত্র কষ্টকর হয় না।’

২. বিজ্ঞানের ভাষায় পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে। বিপক্ষে সূরা ফাতির এর ৪১ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘ নিঃসন্দেহে আল্লাহ আসমান সমূহ ও যমীনকে ধারণ করিয়া রাখিয়াছেন, যেন এতদুভয় বর্তমান অবস্থা হইতে অবস্থানান্তর না হয়।’ প্রসঙ্গত: পৃথিবী স্থির থাকার জন্য উপরোক্ত আয়াত দু’টিই কি যথেষ্ট নয় ?

৩.বিজ্ঞানের ধারণায় পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণের সময় সর্বদা ৬৬.৫ ডিগ্রি হেলে থাকে এবং শীত-গ্রীষ্মে আরও অধিক (২৩.৫+২৩.৫) ৪৭ ডিগ্রি হেলে থাকে। যে জন্য সূর্যকে শীতকালে দক্ষিণদিকে এবং গ্রীষ্মকালে উত্তর দিকে দেখা যায়। বিপক্ষে সূরা আম্বিয়া এর ৩১ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,‘ যমীনের উপর এই জন্য পর্বত সমূহ সৃষ্টি করিয়াছি, যেন যমীন তাহাদিগকে লইয়া হেলিতে না থাকে।

৪. বিজ্ঞানের ধারণায় উপবৃত্তকার পথে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণকালে ৪ঠা জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দুরত্ব ১৫কোটি ২০লক্ষ কিলোমিটার এবং ৩রা জানুয়ারী ১৪ কোটি ৭০লক্ষ কিলোমিটার। অর্থাৎ পৃথিবী দুলতে দুলতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। বিপক্ষে সূরা নহল এর ১৫ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘ তিনি পৃথিবীতে পাহাড়সমূহ স্থাপন করিয়াছেন যেন উহা তোমাদিগকে লইয়া দুলিতে না থকে।’


৫. বিজ্ঞানের ধারণায় পৃথিবীর কাজ হলো সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা এবং আপন অরে উপর ঘুরতে থাকা। বিপক্ষে সূরা লুকমান এর ২৯ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,‘ তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কার্যরত করিয়া রাখিয়াছেন, প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলিতে থাকিবে।’ আবার সূরা রা’দ এর ২নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘ আল্লাহ এমন যে তিনি আসমান সমূহকে খুঁটি ব্যতীত উর্ধাস্থিত করিয়াছেন, যেমন তোমরা উহাদিগকে দেখিতেছ, অতঃপর আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত হইলেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কার্যরত করিলেন ; প্রত্যেকে এক নির্দিষ্ট সময়ে চলিতে থাকে, তিনি সকল কাজের পরিচালনা করেন।’ প্রসঙ্গতঃ পৃথিবী যদি কার্যরত থাকতো তবে সূর্য ও চন্দ্রের সাথে পৃথিবীকেও উল্লেখ করার কোন বাঁধা ছিল কি?

৬. বিজ্ঞান পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির আলোকে সময় নির্ধারণ করে থাকে।  বিপক্ষে সূরা ইউনুস এর ৫নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,‘ আল্লাহ এমন যিনি সূর্যকে দীপ্তমান বানাইয়াছেন এবং চন্দ্রকে আলোকময় করিয়াছেন ও উহার জন্য মঞ্জিল সমূহ নির্ধারিত করিয়াছেন, যাহাতে তোমরা বৎসর সমূহের সংখ্যা ও হিসাব জানিতে পার।’ আবার সূরা আনআম-এর ৯৬নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,‘তিনি প্রভাতের বিকাশকারী আর তিনি রাত্রিকে বিশ্রামকাল  এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসাব নিরুপক বানাইয়াছেন।’

৭. বিজ্ঞানের ধারনায় সূর্য আপন অক্ষের উপর দাঁড়িয়ে প্রায় ২৫দিনে একবার ঘুরছে এবং চন্দ্র ২৭.৩৩ দিনে পৃথিবীর চারিদিকে একবার ঘুরছে। বিপক্ষে সূরা ইয়াছিন এর ৩৮নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘ সূর্য উহার নির্দিষ্ট কে ভ্রমন করিয়া চলিতেছে। ইহা তাহারই নির্ধারিত পরিমান, যিনি মহাপরাক্রান্ত জ্ঞানময়।’ আবার সূরা ইব্রাহীম এর ৩৩নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের উপকারার্থে সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করিয়া দিয়াছেন, যাহা অবিরাম চলিতেই রহিয়াছে।’

৮. বিজ্ঞানের ধারনায় পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে এবং আপন অক্ষের উপর ঘুরছে। কিন্তু সূরা বাকারা এর ২২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ তিনি এমন যে করিয়াছেন যমীনকে তোমাদের জন্য মেঝে স্বরূপ এবং আসমানকে ছাঁদ স্বরূপ।’ প্রসঙ্গত: বর্তমান বিশ্বের অনেকেই নিত্য নতুন গ্রহের অনুসন্ধান পূর্বক গোটা বিশ্বে চমক সৃষ্টি করছেন। কিন্তু পবিত্র কোরআন এবং হাদীসে কোথাও গ্রহের উল্লেখ নেই। কারন বাস্তবক্ষেত্রে গ্রহ বলে কিছুই নেই। প্রকৃতপক্ষে মানুষের অনুসন্ধানকৃত প্রত্যেকটি গ্রহ মূলত: নক্ষত্র।

সূরা আল আরাফ এর ৫৪ নং আয়াত ‘সূর্য ও চন্দ্র এবং অন্যান্য নক্ষত্ররাজিকেও সৃষ্টি করিয়াছেন এমন ভাবে সকলেই তাহার আদেশের অনুবর্তী।’ পক্ষান্তরে বিশ্বের অনেকেরই ভুল ধারনা যে পবিত্র কুরআনে পৃথিবী ঘুরছে বলে বর্নিত রয়েছে। তাদের ধারনা সমগ্র কুরআন এবং হাদিসের মধ্যে শুধু মাত্র সুরা আম্বিয়া এর ৩৩নং আয়াতকে নিয়ে সীমাবদ্ধ। অন্য কোন প্রমাণ তাদের নেই। আয়াতটির বাংলা অর্থ ‘তিনি এমন যিনি রাত্র ও দিবস এবং সূর্য ও চন্দ্রকে সৃষ্টি করিয়াছেন ; প্রত্যেকটি নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটিতেছে”। প্রসঙ্গত আয়াতটির মধ্যে কোথাও আরবি শব্দ র্আদ অর্থাৎ পৃথিবীকে উল্লেখ করা হয়নি বরং সূর্যকেই উল্লেখ পূর্বক সূর্যকেই ঘোরার কথা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ আয়াতটির মধ্যে পৃথিবীকে নিয়ে ঠেলা ঠেলি করা অপ্রাসঙ্গিক এবং চরম দোষনীয় অপরাধও বটে।

এক কথায় পৃথিবীর আহ্নিক গতি বার্ষিক গতিকে বিশ্বাসীরা কি পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত এবং কিছু সহি হাদিসের অবিশ্বাসকারী ? অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে যদি কেই কুরআনের কোন আয়াত অথবা কোন ছহী হাদিসকে অবিশ্বাস করে তবে সে কাফের হয়ে যায়। তাহলে পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে বিশ্বাসীরা কি কাফের ?
উত্তরটা আপনাদের কাছে থেকেই আশা করছি।
শেয়ার অপশন থেকে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না।


কোন মন্তব্য নেই